রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:০২ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বান্দরবানে সকল সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে পহেলা বৈশাখ পালিত সরকারী ছুটিকে কাজে লাগিয়ে বান্দরবানে রাতের আধারে পাহাড় কাটার মহোৎসব পাহাড়ে বর্ণিল আয়োজনে শুরু হল সাংগ্রাই উৎসব যৌথ অভিযানের কারণে রুমা উপজেলায় পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারী নতুন ভোরকে স্বাগত জানিয়ে পাহাড়ে শুরু হলো বৈসাবী উৎসব বান্দরবানে যৌথ বাহিনীর অভিযানে আরো ৩ জন গ্রেফতার বান্দরবানের রুমায় সোনালী ব্যাংক লুট, ম্যানেজার অপহরণ বান্দরবানে বিপন্ন প্রজাতির ২টি ভাল্লুকের বাচ্চা উদ্ধার, আটক- ১ ফরেস্টার সাজাদ্দুজামান সজল হত্যার প্রতিবাদে বান্দরবানে মানববন্ধন বান্দরবানের দূর্গম এলাকায় সেনাবাহিনীর চিকিৎসা সেবা প্রদান

দূর্গম পাহাড়ী এলাকায় দুটি সেতু পাল্টে দিল লক্ষাধিক মানুষের জীবনমান

সোহেল কান্তি নাথ, নিজস্ব প্রতিনিধি॥
বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার দূর্গম এলাকায় দুটি সেতু পাল্টে দিল লক্ষাধিক মানুষের জীবনমান। সীমান্ত থেকে নেমে আসা বাকখালী নদীবেষ্টিত দোছড়ি ও বাইশারী ইউনিয়নের চিত্র পাল্টে দিতে যাচ্ছে এই দুটি সেতু। উদ্বোধনের অপেক্ষায় থাকা সেতু দুটি পাল্টে দিয়েছে অত্র এলাকায় বসবাসরত মানুষের দীর্ঘদিনের স্বপ্ন। ইতোমধ্যে সেতু দুটি নজর কাড়ছে পাশর্^বর্তী এলাকার লোকজনের। রঙ্গিন এই সেতু দুটিতে দিনদিন বাড়ছে লোকজনের উপস্থিতি। এছাড়াও সীমান্তবর্তী ইউনিয়নের সঙ্গে সরাসরি বাইশারী ও আশাপাশের এলাকার মানুষের যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। সেই সঙ্গে পিছিয়ে থাকা এই দুই অঞ্চলের মানুষের অর্থনৈতিক ও অবকাঠামোগত উন্নয়ন হবে। বান্দরবানের নাইক্ষ্যংছড়ি উপজেলার পাশাপাশি দুটি ইউনিয়ন বাইশারী ও দোছড়ি। এই দুই ইউনিয়নে প্রায় অর্ধলক্ষ মানুষের বসবাস। স্বাধীনতার পর থেকে দুটি ইউনিয়নের মানুষ যোগাযোগ করে আসছিল সমতল জেলার অন্য একটি উপজেলার দীর্ঘ পথ পাড়ি দিয়ে। কিন্তু দীর্ঘ এই পথকে সহজ করে অভ্যান্তরীণ যোগাযোগ স্থাপিত হয়েছে। রাবার বাগানের বুকচিরে হরিণখাইয়া, বাকখালী, ছাগলখাইয়া হয়ে দোছড়ি ইউনিয়নের সঙ্গে সরাসরি সড়কপথে যোগাযোগ তৈরি হয়েছে। বিশেষ করে বাখখালী নদীতে ১২৮ মি: ও ছাগলখাইয়ায় ৬৪ মিটার দুটি সেতু দুই ইউনিয়নের মানুষকে একীভূত করেছে। সেতু দুটি নতুন দিগন্তের সূচনা হয়েছে এতদঞ্চলে। এতে করে পিছিয়ে থাকা এ জনপদের অবকাঠামোগত ও অর্থনৈতিক উন্নয়ন হবে। পার্বত্য এলাকার মানুষ সরাসরি তাদের সড়কপথে নির্বিঘেœ ও কম সময়ে যাতায়াত করতে পারবে। পাশাপাশি পাহাড় প্রকৃতি ঘেরা সেতু এলাকায় পর্যটনের বিকাশ যেমন ঘটবে তেমনই কৃষি পণ্য, রাবার বাণিজ্যসহ বাণিজ্যের প্রসার ঘটবে।

বাইশারী ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ আলম বলেন, আগে এই দুই ইউনিয়নের মানুষ সরাসরি যাতায়াত করতে পারতো না। অনেক দূর পাড়ি দিয়ে যাতায়াত করতে হতো। বাকখালী, ছাগলখাইয়া ও গর্জনখালের উপর ব্রীজ হওয়ার ফলে অত্র এলাকার মানুষের যাতায়াত সহজ হয়েছে। অল্প সময়ে এক ইউনিয়নের মানুষ অন্য ইউনিয়নে যাতায়াত করতে পারতেছে। তিনি আরও বলেন, ব্রীজ গুলো হওয়াতে এখানকার জমির মূল্য যেমন বাড়বে তেমনি এই সড়ক হয়ে রাবার ও কৃষি পণ্য সহজেই পরিবহন করা যাবে।

দোছড়ি ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মোহাম্মদ ইমরান বলেন, ব্রিজ হওয়াতে বাঁকখালী ও দোছড়ি দুটি মৌজার মানুষের আমুল পরিবর্তন ঘটবে। বাড়বে নাগরিক সুবিধা। তবে বাকখালী ব্রিজের শেষ অংশে রাস্তার বাকি কাজ সম্পন্ন করার জন্য কর্তৃপক্ষের প্রতি অনুরোধ জানান তিনি। বাইশারী ইউনিয়ন আওয়ামীলীগের নেতা আবুল কালাম জানান, এক সময় এখানকার মানুষের উপজেলায় যেতে কয়েকদিন আগে প্রস্তুতি নিতে হতো। বাজারে যাওয়ার একমাত্র মাধ্যম ছিল নৌকা। কিন্তু এখন মুহুর্তের মধ্যে গাড়ি যোগে গন্তব্যে যেতে পারছে এলাকার মানুষ। অবহেলিত জনপদ ও দূর্গম এলাকায় এ উন্নয়নের মহাযজ্ঞের কারনে এরই মধ্যে জমি জমার দাম বেড়েছে কয়েক গুণ। াল্টে যাচ্ছে এলাকার চেহারা। সেতু দুটি চালু হওয়ার মাধ্যমে দূর্গম এলাকার মানুষ দ্রুত সড়ক যোগাযোগ সুবিধা পাবে।

এলজিইডির তথ্যমতে, ২০২০ অর্থ বছরে বাইশারী দোছিড়ি সড়কে বাকখালী নদীর উপর ৬ কোটি ২৯ লাখ ৮১ হাজার ৮২৮ টাকা ব্যয়ে ১২৮ মিটার এবং ছাগল খাইয়া এলাকায় ৩ কোটি ৩৭ লাখ ৫২ হাজার ২৮৪ টাকায় ৬৪ মিটার দুটি সেতুর টেন্ডার আহ্বান করা হয়। বর্তমানে সেতু গুলো উদ্বোধনের অপেক্ষায় রয়েছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত দিন


© All rights reserved © 2021 Dainik Natun Bangladesh
Design & Developed BY N Host BD