রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৬:৪৪ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বান্দরবানে সকল সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে পহেলা বৈশাখ পালিত সরকারী ছুটিকে কাজে লাগিয়ে বান্দরবানে রাতের আধারে পাহাড় কাটার মহোৎসব পাহাড়ে বর্ণিল আয়োজনে শুরু হল সাংগ্রাই উৎসব যৌথ অভিযানের কারণে রুমা উপজেলায় পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারী নতুন ভোরকে স্বাগত জানিয়ে পাহাড়ে শুরু হলো বৈসাবী উৎসব বান্দরবানে যৌথ বাহিনীর অভিযানে আরো ৩ জন গ্রেফতার বান্দরবানের রুমায় সোনালী ব্যাংক লুট, ম্যানেজার অপহরণ বান্দরবানে বিপন্ন প্রজাতির ২টি ভাল্লুকের বাচ্চা উদ্ধার, আটক- ১ ফরেস্টার সাজাদ্দুজামান সজল হত্যার প্রতিবাদে বান্দরবানে মানববন্ধন বান্দরবানের দূর্গম এলাকায় সেনাবাহিনীর চিকিৎসা সেবা প্রদান

বান্দরবানে থামছে না সাঙ্গু রিজার্ভের কাঠ পাচার, নিরব ভূমিকায় বন বিভাগ

সোহেল কান্তি নাথ, নিজস্ব প্রতিনিধি বান্দরবান:
সরকারি রিজার্ভ বনের নিষিদ্ধ কাঠের রদ্দায় সয়লাব বান্দরবানের কাঠ মজুদের ডিপোগুলো। কোন ভাবেই যেন থামছে না বান্দরবানের সাঙ্গু রিজাভের বিলুপ্ত মূল্যবান কাঠ পাচার। সংঘবদ্ধ পাচারকারী সংঘবদ্ধ চক্রের কারণে হুমকিতে এখন এ বন। চক্রটি প্রভাবশালী হওয়ার কারণে বান্দরবানের দুই বন বিভাগও নিরব ভূমিকা পালন করছে। সাঙ্গু রিজার্ভে আশপাশে হওয়ায় বান্দরবানের থানছি, সেকদু রেঞ্জ ও পাল্পউডের মিবাক্ষ্যা, রেমাক্রী রেঞ্জ হতে সব ধরণের জোত পারমিট ইস্যু, গাছ কর্তন পূর্বক আহরণ এবং পরিবহন নিষিন্ধ করে ২০২০ সালের ২৯ ডিসেম্বরে পত্রাদেশ দেন প্রধান বন সংরক্ষক মো. আমীর হোসেন চৌধুরী। তিনি বর্তমানে একই পদে কমর্রত থাকলেও তাঁর চিঠির নির্দেশনা মাঠ পর্যায়ে মানছেন না বান্দরবান ও পাল্পউড বন বিভাগ। ২০২০সালে কর্তন নিষিদ্ধ হলে বান্দরবান শহরের প্রতিটি ডিপোতে (কাঠ মজুদের পয়েন্ট) সয়লাব সরকারি সাঙ্গু সংরক্ষিত বনের নিষিদ্ধ গাছে দাপাট রদ্দায়। বর্তমানে বান্দরবান শহরে কাঠ মজুদের স্থান নিউগুলশান ডিপো, জেরী বাবুর ডিপো, উজানি পাড়া ডিপো, মাখসুদ কোম্পানীর ডিপো এবং শহীদ মাষ্টারের ডিপোতে এসব বিলুপ্ত প্রজাতির গর্জন, গোদা, গুটিয়া গামার ও চাপালিশ গাছের দাপাট রদ্দার বিশাল মজুদ রয়েছে। যার আনুমানিক পরিমান ২০ হাজার ঘনফুটের চেয়েও বেশি।

দীর্ঘদিন ধরে বান্দরবানের সাঙ্গু রিজার্ভ থেকে নিষেধ প্রজাতির কাঠ প্রশাসনের চোখ ফাঁকি দিয়ে পাঁচার হয়ে আসছে এমন সংবাদের ভিত্তিতে গত ১০ অক্টোবর মঙ্গলবার চট্টগ্রাম কোষ্টগার্ডের একটি দল নতুনব্রীজ টোল পয়েন্ট এ অভিযান চালায়। এসময় বান্দরবানের ইসলামী শিক্ষাকেন্দ্র ডিপো হতে লোডিংকৃত ঢাকাগামী গাছ বোঝাই একটি ট্রাক (পিরোজপুর ট ১১-০১৯৯) আটক করে। পরে আটককৃত ট্রাকটি কোস্টগার্ড চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের কাছে হস্তান্তর করে। গাড়ীটিতে বিভিন্ন প্রজাতির ৪ শত ২২ ঘনফুট রদ্দার টিপিও থাকলেও চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগ গাড়ীটিতে ৭৩ ঘনফুট নিষিধ প্রজাতির গর্জন, জারুল, কড়ই, গোদা ও গামারী কাঠের রদ্দা পান। বিষয়টি নিশ্চিত করেন চট্টগ্রাম দক্ষিণ বন বিভাগের রেঞ্জ কর্মকর্তা আরিফুল ইসলাম। জানা যায়, আটকৃত গাড়ীটি বান্দরবানের কাঠ ব্যবসায়ী ও আওয়ামী লীগ নেতা সালাউদ্দিন। তিনি দীর্ঘদিন ধরে জোত পারমিটের আড়ালে অবৈধভাবে নিষিদ্ধ প্রজাতির সরকারি রিজার্ভ বনের কাঠ পাঁচার করে আসছে বলেও বিভিন্ন সূত্রে জানা যায়। এদিকে দীর্ঘদিন ধরে পাচারকারী দলের সদস্যরা নিষিদ্ধ প্রজাতির এসব কাঠ পাচার করে আসলেও বন বিভাগ নিরব ভূমিকা পালন করায় জনমনে দেখা দিয়েছে অসন্তোষ। শীঘ্রই আসব কাঠ পাচার বন্ধে কার্যকরী পদক্ষেপ না নিলে প্রাকৃতিক পরিবেশ বড় ধরনের হুমকির মুখে পড়বে বলে মনে করেন পরিবেশবিদরা।

এদিকে বিষয়টি বন বিভাগের উর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের নজরে আসলে বুধবার ৩ সদস্যের একটি তদন্ত কমিটি গঠন করে এবং উক্ত কমিটিকে সাত কর্ম দিবসের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন জমা দেয়ার কথা বলা হয়। কিন্তু এখনো পর্যন্ত ৩ সদস্য বিশিষ্ট তদন্ত কমিটি কোন ডিপোতে অভিযান পরিচালনা করেনি। তবে কাঠের ডিপোগুলোতে শীঘ্রই অভিযান পরিচালনা করার কথা জানান তদন্ত কমিটির সদস্য ও ক্যাচালং রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা জুয়েল চৌধুরী।

পোস্টটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত দিন


© All rights reserved © 2021 Dainik Natun Bangladesh
Design & Developed BY N Host BD