সোমবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৪, ০১:৪৪ পূর্বাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বান্দরবান বিশ্ববিদ্যালয়ে বসন্ত ও পিঠা উৎসব অনুষ্ঠিত উদ্ধার হওয়া হারানো ফোন ও প্রতারণার টাকা হস্তান্তর করেছে এপিবিএন জেলা শিক্ষা বিভাগকে হারিয়ে জয়লাভ করেন বান্দরবান জেলা পুলিশ দল স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন শরণ এর উদ্যোগে মাতৃভাষা দিবস পালন বান্দরবানে বারি উদ্ভাবিত কৃষি যন্ত্রপাতির পরিচিতি ও প্রশিক্ষণ অনুষ্টিত বান্দরবানে পর্যটকবাহী বাস উল্টে আহত ২০ পর্যটক বান্দরবানে নানা আয়োজনে চলছে সনাতনী ধর্মালম্বীদের সরস্বতী পূজা ভালোবাসা দিবস উপলক্ষ্যে পর্যটকদের ফুল দিয়ে বরণ করলেন প্রথমআলো বন্ধুসভা বান্দরবানে পার্বত্য বক্সিং বাছাই ফ্রেন্ডলি ম্যাচ অনুষ্ঠিত বান্দরবানে মিসকি খাল পরিচ্ছন্নতা অভিযান

বান্দরবানে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের মহাপিন্ড দানের মাধ্যমে শেষ হলো কঠিন চীবর দানোৎসব

সোহেল কান্তি নাথ, নিজস্ব প্রতিনিধি বান্দরবান:
বান্দরবানে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের মহাপিন্ড দানের মাধ্যমে সম্পন্ন হয়েছে মাস ব্যাপী কঠিন চীবর দানোৎসব। মঙ্গলবার (২৮ নভেম্বর) সকালে উৎসবের শেষদিনে কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহার থেকে পাঁচ শতাধিক বৌদ্ধ ভিক্ষু খালি পায়ে প্রাত ভ্রমণ করে সারিবদ্ধভাবে লাইন ধরে মহাপিন্ড গ্রহণে বের হন। বৌদ্ধ ভিক্ষুরা বান্দরবান শহরের মধ্যম পাড়া, উজানী পাড়া ঘুরে ঘুরে বৌদ্ধ ধর্মালম্বী নারী-পুরুষের কাছ থেকে ছোয়াইং ও পিন্ডদানের অর্থ গ্রহণ করেন। দীর্ঘ দুই কিলোমিটার পথ পর্যন্ত পাহাড়ি বৌদ্ধ ধর্মালম্বীরা প্যান্ডেল টাঙ্গিয়ে রাস্তার দুপাশে দাড়িয়ে সারিবদ্ধভাবে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের ছোয়াইং, চাল, নগদ টাকা, চীবর, মোমবাতিসহ উৎসবের নানা সামগ্রী ধর্মীয় গুরুদের দান করেন। পুণ্য লাভের আশায় বৌদ্ধ ধর্মাবলম্বীরা ভিক্ষুদের পিন্ডদানের পাশাপাশি নানা প্রকার মিষ্টান্ন খাবারও দান করেন। এ ছাড়া বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সামনে থাকা বৌদ্ধ মূর্তিকে পূজাও দেওয়া হয়। পিন্ডদান অনুষ্ঠানে অংশ নেন পার্বত্য চট্টগ্রাম বিষয়ক মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী বীর বাহাদুর উশৈসিং এমপি, পার্বত্য জেলা পরিষদের চেয়ারম্যান ক্যশৈহ্লা, মন্ত্রীর সহধর্মিণী মেহ্লাপ্রু মারমা প্রমুখ।

বৌদ্ধ ধর্মালম্বীরা জানায়, আষাঢ়ী পূর্ণিমা থেকে আশ্বিনী পূর্ণিমা পর্যন্ত তিন মাস বর্ষাবাসে (উপুস) থাকার পর ব্যাপক উৎসাহ উদ্দীপনায় দায়ক-দায়িকারা বৌদ্ধ ভিক্ষুদের সম্মানে বান্দরবানের বৌদ্ধ মন্দিরগুলোতে দানোত্তম কঠিন চীবর দানোৎসব পালন করেন। এই উৎসবে পাহাড়িরা চব্বিশ ঘণ্টার মধ্যে নতুন তুলা থেকে চর্কার মাধ্যমে সুতা তৈরি করে বৌদ্ধ ভিক্ষুদের পরিধানের জন্য চীবর কাপড় বুনে ভিক্ষুদের মাঝে চীবর দান করেন। কোনো প্রকার সেলাই ছাড়া তৈরি চীবর কাপড় বৌদ্ধ ভিক্ষুদের বিতরণ করা হয় এ উৎসবে। প্রায় দুই হাজার বছর আগে গৌতম বুদ্ধের মহা পুণ্যবতী নারী বিশাখা দেবী এই কঠিন ব্রতী পালন করে বুদ্ধকে চীবর দান করেছিলেন। সেই থেকে প্রতিবছর বান্দরবানে কেন্দ্রীয় বৌদ্ধ বিহারসহ পাহাড়ের বৌদ্ধ বিহারগুলো ব্যাপক আয়োজনে মাসব্যাপী কঠিন চীবর দানোৎসব ধর্মীয়ভাবে পালন করে আসছে।

পোস্টটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত দিন


© All rights reserved © 2021 Dainik Natun Bangladesh
Design & Developed BY N Host BD