রবিবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৪, ০৫:১১ অপরাহ্ন

সংবাদ শিরোনাম :
বান্দরবানে সকল সম্প্রদায়ের অংশগ্রহণে পহেলা বৈশাখ পালিত সরকারী ছুটিকে কাজে লাগিয়ে বান্দরবানে রাতের আধারে পাহাড় কাটার মহোৎসব পাহাড়ে বর্ণিল আয়োজনে শুরু হল সাংগ্রাই উৎসব যৌথ অভিযানের কারণে রুমা উপজেলায় পর্যটক ভ্রমণে নিষেধাজ্ঞা জারী নতুন ভোরকে স্বাগত জানিয়ে পাহাড়ে শুরু হলো বৈসাবী উৎসব বান্দরবানে যৌথ বাহিনীর অভিযানে আরো ৩ জন গ্রেফতার বান্দরবানের রুমায় সোনালী ব্যাংক লুট, ম্যানেজার অপহরণ বান্দরবানে বিপন্ন প্রজাতির ২টি ভাল্লুকের বাচ্চা উদ্ধার, আটক- ১ ফরেস্টার সাজাদ্দুজামান সজল হত্যার প্রতিবাদে বান্দরবানে মানববন্ধন বান্দরবানের দূর্গম এলাকায় সেনাবাহিনীর চিকিৎসা সেবা প্রদান

হারিয়ে যাওয়া ভাষা সংরক্ষণে আলীকদমের ক্রাংসি পাড়ায় সেনা উদ্যোগে বিদ্যালয় নির্মান

সোহেল কান্তি নাথ, স্টাফ রিপোর্টার:
হারিয়ে যাওয়া ভাষা সংরক্ষনে সেনাবাহিনীর উদ্যোগে বান্দরবানের আলীকদমে ‘বিপন্ন প্রায় রেংমিটচা ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র’ নামে একটি বিদ্যালয় নির্মান করা হয়েছে। রবিবার (১০ মার্চ) দুপুরে আলীকদম উপজেলার কুরুকপাতা ইউনিয়নের ক্রাংসি পাড়া এলাকায় প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত থেকে এ বিদ্যালয়ের শুভ উদ্বোধন করেন বান্দরবান সেনা রিজিয়নের রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল গোলাম মহিউদ্দিন। এসময় তিনি বলেন, বাংলাদেশ সেনাবাহিনী দীর্ঘদিন ধরে পার্বত্যাঞ্চলে দূর্গম এলাকায় শিক্ষা বিস্তারে কাজ করে যাচ্ছে। এরই ধারাবাহিকতায় আলীকদম উপজেলার কুরুকপাতা ইউনিয়নের দূর্গম ক্রাংসি পাড়ায় একটি বিদ্যালয় নির্মাণ করা হয়েছে। এসময় তিনি আরো বলেন, এ পাড়ায় স্বাধীনতার পর থেকে কোন বিদ্যালয় ছিল না। শুধু তাই নয় ক্রাংসি পাড়ায় অধিকাংশ ¤্রাে পরিবারের বসবাস হলেও রেংমিটচা ভাষায় কয়েকটি পরিবারের বসবাস করত। কিন্তু তারা সংখ্যায় কম হওয়ায় দিন দিন রেংমিটচা ভাষাটি হারিয়ে যেতে বসেছিল। সংবাদটি পাওয়ার পর ভাষাটি সংরক্ষণের জন্য আমাদের এই উদ্যোগ। বিদ্যালয়টি করে দিয়েছি, যাতে করে রেংমিটচা ভাষাটি নতুন প্রজন্ম শিশুদের শিখাতে পারে। চর্চার মাধ্যমে কালের বিবর্তনে হারিয়ে যেতে বসা বিপন্ন এই ভাষাটি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে বলে মনে করেন তিনি।

সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, বান্দরবানের আলীকদম উপজেলা থেকে ১৫ থেকে ২০ কিলোমিটার দূরে অবস্থিত ক্রাংসি পাড়া। যেখানে সড়ক, ১ ঘন্টার নৌপথ ও ১ থেকে ২ ঘন্টা পায়ে হেটে যেতে হয়। নেই কোন আধুনিক সুযোগ সুবিধা। পাহাড়ে উৎপাদিত ফলফলাদি খেয়ে জীবন নির্বাহ করে এই পাড়ার বাসিন্দারা। কোন বিদ্যালয় না থাকায় পড়ালেখা থেকে বঞ্চিত ক্রাংসি পাড়ার ¤্রাে সম্প্রদায়ের ছেলে-মেয়েরা। দেখেনি কখনো বিদ্যুতের আলো। এই ক্রাংসি পাড়া ৩৮ ¤্রাে পরিবারের বসবাস। তার মধ্যে ৩ পরিবারের ১৩ জন রেংমিটচা ভাষায় কথা বলে। এই ভাষার লোকজন সংখ্যা কম হওয়ায় অন্যদের সাথে মিশতে বা কথা বলতে পারতো না। তাই তারা ¤্রাে ভাষা শিখতে শুরু করে এবং অনেকেই ¤্রাে ভাষায় কথা বলে। এছাড়াও বয়োবৃদ্ধ জনিত কারণে অনেক রেংমিটচা ভাষার লোক মৃত্যুবরণ করেন। আবার অনেকে অন্যত্র চলে যান। সব মিলিয়ে ক্ষুদ্র নৃগোষ্টীর এই ভাষাটি হারিয়ে যেতে বসেছিল। বিষয়টি বিভিন্ন পত্র পত্রিকায় প্রকাশ হওয়ার পর নজরে আসে সেনাবাহিনীর এবং সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয় ভাষাটির। ক্রাংসি পাড়ায় নির্মাণ করে দেয়া হয় ‘বিপন্ন প্রায় রেংমিটচা ভাষা শিক্ষা কেন্দ্র’ নামে একটি বিদ্যালয়। এই বিদ্যালয়ে রেংমিটচা ভাষার চর্চার পাশাপাশি বাংলা ভাষায় পাঠদানের জন্য ইতোমধ্যে ৪ জন শিক্ষকও নিয়োগ দেয়া হয়েছে। এ উদ্যোগে ফলে বিলুপ্তির পথে রেংমিটচা ভাষাটি সংরক্ষণ করা সম্ভব হবে বলে জানান স্থানীয়রা।

নবনির্মিত ক্রাংসিপাড়া সেনা মৈত্রী প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক চিংরাও ম্রো বলেন, আমাদের রেংমিটচ্য ভাষাকে বাঁচিয়ে রাখতে এতদিন নিজের বাড়িতে ছেলেমেয়েদের পড়িয়েছি। পাড়াবাসী ও রেংমিটচ্য ভাষাভাষীর পরিবারের স্কুল নির্মাণে ইচ্ছা থাকলেও আর্থিক অস্বচ্ছলতা কারণে নির্মাণ করতে পারিনি। সেনাবাহিনীর উদ্যোগে স্কুল নির্মাণ হয়েছে। এই স্কুলের মাধ্যমে রেংমিটচ্য ভাষা নতুন প্রজন্মের ছেলেমেয়েদের শিক্ষাতে পরবো।

বিদ্যালয়টি উদ্বোধনকালে অন্যান্যদের মধ্যে বান্দরবান সেনা রিজিয়নে নবনিযুক্ত রিজিয়ন কমান্ডার ব্রিগেডিয়ার জেনারেল মেহেদী হাসান, আলীকদম সেনা জোনের জোন কমান্ডার লে: কর্ণেল শওকাতুল মোনায়েম, আলীকদম থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা খন্দকার তবিদুর রহমান, ক্রাংসি পাড়াবাসী-শিক্ষার্থী ও সাংবাদিকরা উপস্থিত ছিলেন।

পরে ক্রাংসি পাড়ার শিক্ষার্থীদের মাঝে শিক্ষা উপকরণ, ক্রীড়া সামগ্রী বিতরণ এবং পাড়াবাসীদের চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। এছাড়াও বিদ্যালয়ের চারপাশে বিভিন্ন গাছের চারা লাগানো হয়।

পোস্টটি শেয়ার করুন:

আপনার মতামত দিন


© All rights reserved © 2021 Dainik Natun Bangladesh
Design & Developed BY N Host BD