নিজস্ব প্রতিবেদক: ১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সক্রিয়ভাবে অংশগ্রহণ করেও দীর্ঘদিন ধরে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি না পাওয়ার অভিযোগ তুলেছেন চুয়াডাঙ্গা জেলার দামুড়হুদা উপজেলার এক মুক্তিযোদ্ধা। তার দাবি, একই সময়ে একই প্রশিক্ষণ ক্যাম্পে প্রশিক্ষণ গ্রহণ এবং একসঙ্গে মুক্তিযুদ্ধে অংশগ্রহণকারী তার সহযোদ্ধা এস এম আব্দুল হান্নানের নাম সরকারি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হলেও তার নাম এখনো অন্তর্ভুক্ত হয়নি।
জানা গেছে, দামুড়হুদা উপজেলায় মোট ১৩২ জন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধার তালিকা প্রস্তুত করে জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)-এর কাছে গেজেটভুক্তির জন্য পাঠানো হয়। দীর্ঘদিন অতিবাহিত হলেও এ বিষয়ে কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ না হওয়ায় তিনি ও তার সহযোদ্ধা এস এম আব্দুল হান্নান একসঙ্গে মহামান্য হাইকোর্টে একটি রীট পিটিশন দায়ের করেন।
পরে আদালতের নির্দেশনা অনুযায়ী তারা জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা)-এর সামনে উপস্থিত হয়ে সাক্ষাৎকার প্রদান করেন। পরবর্তীতে গত ৪ সেপ্টেম্বর ২০২৫ তারিখে এস এম আব্দুল হান্নানের নাম মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে সরকারি গেজেটে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।
তবে একই প্রক্রিয়ায় অংশ নেওয়া সত্ত্বেও এখনো ওই মুক্তিযোদ্ধার নাম গেজেটে অন্তর্ভুক্ত হয়নি বলে অভিযোগ করেন তিনি।
এ বিষয়ে জামুকার মহাপরিচালকের সাথে যোগাযোগ করলে তিনি জানান, এ বিষয়ে মন্ত্রণালয়ের সচিবের অনুমোদন প্রয়োজন। পরবর্তীতে তিনি মুক্তিযুদ্ধ বিষয়ক মন্ত্রণালয়ে আবেদন করলে সচিব গত ৩ নভেম্বর ২০২৫ তারিখে ১৬৩৩ নম্বর পত্রে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণের নির্দেশ দেন। কিন্তু অভিযোগ রয়েছে, সচিবের নির্দেশনা থাকার পরও এখন পর্যন্ত জাতীয় মুক্তিযোদ্ধা কাউন্সিল (জামুকা) কোনো কার্যকর ব্যবস্থা গ্রহণ করেনি।
বর্তমানে তিনি গুরুতর অসুস্থ অবস্থায় দিন কাটাচ্ছেন। মৃত্যুর আগে একজন প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে রাষ্ট্রীয় স্বীকৃতি পাওয়ার আকুতি জানিয়েছেন তিনি।
তার অভিযোগ, বছরের পর বছর ধরে বিভিন্ন দপ্তরে ঘুরেও তিনি কোনো সুরাহা পাননি। একই প্রশিক্ষণ ও একই যুদ্ধে অংশ নেওয়া দুই সহযোদ্ধার একজন গেজেটভুক্ত হলেও অন্যজনের নাম বাদ পড়া প্রশাসনিক প্রক্রিয়া নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে।
এ বিষয়ে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের দ্রুত হস্তক্ষেপ কামনা করেছেন তিনি এবং বিষয়টি তদন্ত করে প্রকৃত মুক্তিযোদ্ধা হিসেবে তাকে গেজেটভুক্ত করার দাবি জানিয়েছেন।
Leave a Reply