1. admin@dainiknatunbangladesh.com : updum.com : doinikprothombayla com
আমার যত ভাবনা- মুহাম্মদ মফিজুল ইসলাম ভুইয়া - Dainiknatunbangladesh.com
শনিবার, ১৬ মে ২০২৬, ০৪:২৬ পূর্বাহ্ন

আমার যত ভাবনা— মুহাম্মদ মফিজুল ইসলাম ভুইয়া

রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : শুক্রবার, ৩১ অক্টোবর, ২০২৫
  • ৮৮ বার পঠিত

উপমহাদেশে অনেক নামিদামি প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়া ব্যক্তিত্ব রয়েছে যারা সত্য ও বাস্তবতার নিরিখে কলম ধরতে ভয় পায়।

দেশের প্রতিটি প্রান্তে শাসন ব্যবস্থায় চলছে শুধু ঘুষ,দুর্নীতি,স্বজনপ্রীতি,দলীয়করণ আর গরিব মারার কৌশল। দিনেদিনে যতই আধুনিকতার ছোঁয়া স্পর্শ করছে ততই দুর্নীতি আর দলীয়করণে নিমজ্জিত হচ্ছে দেশ। কেউ কারও প্রতি সহনশীলতা আর ন্যায়ের পক্ষ অবলম্বন করার লেবাস দেখাতে পারছে না।

দেশের সবখানে চলমান এমন কিছু ঘটনাপ্রবাহ বাস্তবতার নিরিখে খুঁজে বের করতে এ লেখা। আজকাল লেখক আর সাংবাদিকরা তো রাজনৈতিকপন্থা অবলম্বন করে লিখছে। তাদের লিখায় কারও গায়ে লাগলে তো লেখকের জীবন প্রদীপ নিবে যাওয়ারও ভয় থাকছে। কি করার আছে তাদের ? তারা যে এক জায়গায় বন্দী? সে বন্দীত্বের শিকল ভেঙে কেউ বের হতে সাহস পাচ্ছে না। অযাচিত জামেলায় না গিয়ে বেঁচে থাকতে পারলেই শ্রেয়।

২০১০ সালে সরকারি চাকরি হতে বাধ্যতামূলক অবসর গ্রহনের পর সাংবাদিকতায় হাতে খড়ি। সেখান থেকে বিন্দু পরিমান মনের গহিনে জমাটবাধা আবেগ আর বাস্তবতাকে পূ্ঁজি করে একজন কলমযোদ্ধা হিসেবে পথচলা শুরু। ক্ষুুদ্র সময়ে সংক্ষিপ্ত পরিসরে দেশের প্রতিটি সেক্টরের বিস্তারিত ঘটনাপ্রবাহ পর্যায়ক্রমে আলোচনা করাই আমার যত ভাবনা।

এসব ভাবনা থেকে পরিত্রাণের উপায় নিয়ে কিছু মতামত তুলে ধরার চেষ্টা করছি। আশা করছি এ ক্ষুুদ্র ভাবনা অনাবিল ভবিষ্যতে আমার মহামূল্যবান  প্রেরণা হয়ে থাকবে। আমার ভাবনা সমূহ?

১. সুষ্ঠ নিরপেক্ষ তদন্ত ও বিচার ব্যবস্থা
*  Truth and Reconciliation Commissions: দেশ স্বাধীনের পর প্রত্যেক শাসনামলের ও স্বৈরাচার বিরোধী আন্দোলনের​ সময় সংঘটিত সকল নির্যাতন ও হত্যার​ ঘটনা তদন্ত এবং নথিভুক্ত করার জন্য কমিশন গঠন করা। যাতে ভুক্তভোগীরা তাদের কথা বলতে পারে এবং জাতীয় নিরাময় প্রক্রিয়া এগিয়ে যায়।
*  মানবাধিকার লঙ্ঘনের বিচার: অত্যাচারের জন্য দায়ীদের ন্যায়সঙ্গত ও স্বচ্ছ আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে বিচারের সম্মুখীন করা।
*  ক্ষতিপূরণ ও পুনর্বাসন: পূর্ববর্তী শাসনের নির্যাতনের শিকার ব্যক্তিদের জন্য ক্ষতিপূরণ প্রদান করা।

২. নিরাপত্তা খাতের সংস্কার:
*  সামরিক ও পুলিশ বাহিনীর অপরাজনীতিকরণ: নিরাপত্তা বাহিনীকে পুনর্গঠন করা। যাতে ভবিষ্যতে নির্যাতনের ঘটনা না ঘটে এবং তারা বেসামরিক কর্তৃপক্ষের কাছে জবাবদিহি করতে পারে।
* পুলিশ,বিজিবি,আনসারদের ঘুষ ও দুর্নীতি বন্ধ করে জণগনের সেবক হিসেবে প্রতিষ্ঠা করা।
* স্বৈরাচারী সন্ত্রাসীদের​ হাতে থাকা অস্ত্র পুনরুদ্ধার​ ও নিরস্ত্রীকরণ।

৩. সংবিধান ও আইনগত সংস্কার
*  নতুন সংবিধান প্রণয়ন: গণতান্ত্রিক নীতি, মানবাধিকার এবং ক্ষমতার ভারসাম্য নিশ্চিত করার জন্য একটি নতুন সংবিধান প্রণয়ন করা।
*  বিচার বিভাগের সংস্কার: বিচার বিভাগের স্বাধীনতা ও সক্ষমতা শক্তিশালী করা। যাতে এটি দুর্নীতি ও রাজনৈতিক প্রভাবমুক্ত থেকে আইনের শাসন বজায় রাখতে পারে।
*  নির্বাচনী সংস্কার: একটি সুষ্ঠু ও স্বচ্ছ নির্বাচনী ব্যবস্থা স্থাপন করা। যেখানে স্বাধীন নির্বাচন পরিচালনা সংস্থা থাকে এবং অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচন নিশ্চিত হয়।

৪. দুর্নীতি বিরোধী ব্যবস্থা:
* দুর্নীতি দমন কমিশন ঢেলে সাজানো: দুর্নীতি তদন্ত এবং বিচার করার জন্য স্বাধীন দুদক গঠন করা। সরকারি ক্রয় এবং ব্যয় পরিচালনায় স্বচ্ছ প্রক্রিয়া বাস্তবায়ন করা। দুর্নীতিবাজ  ব্যক্তি ও প্রাতিষ্ঠানিক ছোট ব​ড় প্রত্যেকটি দূর্নীতির তদন্ত, বিচার  প্রক্রিয়া শুরু করা। প্রয়োজনে বৈদেশিক সরকারের সাথে সমন্বয় করা। ব্যক্তি পর্যায়ে সরকারী ও সামরিক শাখার সকল দূর্নীতিবাজ হোক বর্তমানে কর্মরত কিংবা যেকোন সম​য় চাকুরীরত ছিল কিন্ত বর্তমানে প্রাক্তন অবসরপ্রাপ্ত সকল দূর্নীতিবাজ মন্ত্রী,সংসদ সদস্য​,সরকারী কর্মকর্তা, কর্মচারী,তাদের পরিবার,আত্মীয়স্বজন, নিকটবন্ধুস্বজনদের​ তদন্ত ও বিচারের আওতায় এনে সকল দূর্নীতিপ্রাপ্ত টাকা ও সম্পত্তি বাজেয়াপ্ত করা। যে দেশেই হোক​ পাচার করা সকল টাকা উদ্ধার ও দেশে ফেরত আনা। বিদেশে পালিয়ে থাকলে তাদের গ্রেপ্তার করে দেশে ফেরত এনে বিচার করা এবং তিরস্কার পদ্ধতি চালু করা। এ প্রক্রিয়ায় যেন স​ৎ কেউ ক্ষতিগ্রস্ত না হ​য় সেদিকে খেয়াল রাখা।
* সম্পদ পুনরুদ্ধার ও ব্যবস্থাপনা: স্বাধীনতা পরবর্তী শাসনামলে চুরি হওয়া সম্পদের সনাক্তকরণ এবং পুনরুদ্ধার করা। উদ্ধারকৃত অর্থ দেশ পুনর্গঠনের কাজে ব্যবহার করা।

৫. অর্থনৈতিক সংস্কার:

* স্থিতিশীলতা ও পুনরুদ্ধার: মুদ্রাস্ফীতি মোকাবিলা, জাতীয় মুদ্রাকে শক্তিশালী করা। মুদ্রার প্রতি আস্থা পুনরুদ্ধার এবং বৈদেশিক সাহায্য ও বিনিয়োগ আকর্ষণ সহ অর্থনীতিকে স্থিতিশীল করার পদক্ষেপ গ্রহণ করা।
* জমি ও সম্পত্তি সংস্কার: জমির মালিকানা ও সম্পত্তির অধিকার সম্পর্কিত সমস্যাগুলো মোকাবিলা করা। তাছাড়া ভূমি ব্যবস্থাপনা আইন ও নাগরিক সেবা নিশ্চিত করা।
* জনসেবা খাতের সংস্কার: সিভিল সার্ভিসকে পুনর্গঠন ও পেশাদার করা। যাতে এটি দক্ষ, মেধাভিত্তিক এবং জনগণের স্বার্থে কাজ করে।

৬. গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান নির্মাণ
* সুশীল সমাজের শক্তিশালীকরণ: এনজিও, সম্প্রদায় সংগঠন এবং মুক্ত মিডিয়া সহ একটি শক্তিশালী সুশীল সমাজের বিকাশকে উৎসাহিত করা। যাতে জবাবদিহিতা ও নাগরিক অংশগ্রহণ বৃদ্ধি পায়।
* প্রশাসন বিকেন্দ্রীকরণ: প্রশাসনের সর্বোচ্চ থেকে সর্বনিম্ন পর্যায়ে ঢেলে সাজানো এবং শাসনব্যবস্থা জণগনের মাঝে প্রচার করা। স্থানীয় ও আঞ্চলিক কর্তৃপক্ষকে তাদের সম্প্রদায়-নির্দিষ্ট প্রয়োজন পূরণের ক্ষমতা দেওয়া।

৭. সামাজিক সংস্কার
* শিক্ষা ও নাগরিক সচেতনতা: শিক্ষা ব্যবস্থার সংস্কার করা। যাতে সমালোচনামূলক চিন্তাভাবনা, গণতান্ত্রিক মূল্যবোধ এবং দেশের ইতিহাসের সঠিক উপলব্ধি প্রচারিত হয়। সকল ধর্মের প্রতি সম্মান প্রদর্শন। বই পুস্তক বা উপাসনালয়ে ধর্মিয় আঘাত হানে এমন আইন বা আদেশ বাতিল করা।
* স্বাস্থ্যসেবা ও সামাজিক সেবা: বিশেষত দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলে সেবা-বঞ্চিত এলাকায় মৌলিক পরিষেবাগুলি যেমন- স্বাস্থ্যসেবা, বিশুদ্ধ পানি এবং স্যানিটেশন ব্যবস্থা পুনর্গঠন ও প্রসার করা।

৮.ঐক্যবদ্ধ জাতি গঠন:
* জাতীয় ঐক্য প্রচার করা: জাতীয় ঐক্যকে উৎসাহিত করার জন্য বিভিন্ন কর্মসূচি ও সংলাপ শুরু করা। যাতে স্বৈরাচারী সময়ে সৃষ্ট সামাজিক ফাটলগুলো দূর করা যায়।
* সাংস্কৃতিক ও ইতিহাস পুনঃউদ্ধার: সাংস্কৃতিক ঐতিহ্য এবং ইতিহাসের পুনরুদ্ধার ও উদযাপনকে উৎসাহিত করা।

৯। জাতীয় মুক্তগণমাধ্যম প্রতিষ্ঠা

* দেশের সকল প্রিন্ট ও ইলেকট্রনিক মিডিয়াকে স্বাধীন ও নিরপেক্ষভাবে কাজ করার সুযোগ দেওয়া। দলীয় মিডিয়াকে সংস্কার করে বস্তুনিষ্ঠ সংবাদ পরিবেশনের ব্যবস্থা করা।
* রাষ্ট্রীয় সন্ত্রাস দ্বারা নির্যাতিত সংবাদকর্মীদের পুনরায় চাকরিতে বহাল করা। বিভিন্ন আন্দোলন সংগ্রামে আহত ও নিহত সংবাদকর্মীদের ক্ষতিপূরণ দেওয়া।
* সকল অনলাইন গণমাধ্যমকে জবাবদিহির আওতায় আনা এবং দেশের গণমাধ্যমের ভাবমূর্তি ফিরিয়ে আনতে প্রয়োজনীয় পদক্ষেপ নেওয়া।  গণমাধ্যমকে স্বাধীনভাবে কাজ করার সুযোগে পুর্ন সহায়তা করা।

জনগণ এবং সরকারের অংশীদারদের সাথে ব্যাপক পরামর্শের মাধ্যমে এটি নিশ্চিত হয়ে জনগণের আস্থা এবং সমর্থন পাওয়া যাবে। আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় ও প্রযুক্তিগত সহায়তা,তহবিল এবং  অগ্রগতি পর্যবেক্ষণের মাধ্যমে সহায়ক ভূমিকা পালন করবে বলে মনে করছি।
আল্লাহ হাফেজ,,

লেখক:
মুহাম্মদ মফিজুল ইসলাম ভুইয়া জনি
সিনিয়র সাংবাদিক ও সমাজকর্মী

সংবাদটি শেয়ার করুন

Leave a Reply

Your email address will not be published. Required fields are marked *

এই রকম আরো কিছু জনপ্রিয় সংবাদ

© All rights reserved © 2025 Dainiknatunbangladesh.com
Design & Development By Hostitbd.Com